ইবিএল অ্যাকুয়া প্রি-পেইড মাস্টার কার্ড এর বিস্তারিত এ-টু-জেড!

বিভাগ: ব্যাংকিং


দেশের বাইরে ভ্রমন ও অনলাইন শপিং প্রেমীদের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক এর জনপ্রিয় একটি কার্ড সার্ভিস হচ্ছে অ্যাকুয়া প্রি-পেইড মাস্টার কার্ড। এটি একটি ডুয়েল কারেন্সির কার্ড অর্থাৎ এটিতে আপনি BDT (বাংলাদেশী কারেন্সি) ও USD দুটোই রাখতে পারবেন। ইবিএল এর যেকোন শাখায় গিয়ে আপনি এই কার্ডটি নিতে পারবেন।

কার্ডটির সুবিধাদি


- কার্ডটিতে আপনি ডুয়েল কারেন্সি রাখতে পারবেন (USD, BDT) । USD ব্যবহারের জন্য পাসপোর্ট এন্ড্রোসমেন্ট বাধ্যতামূলক।
- কার্ডটির ফি ৫০০ টাকা ভ্যাট সহ ৫৭৫ টাকা যা তিন বছরের জন্য। বছরে বছরে কোন ফি নেই।
- প্রতিটি লেনদেনের এসএমএস এলার্ট সুবিধা।
- কার্ডটি দিয়ে আপনি দেশের বাইরে ভ্রমনে গেলে এটি দিয়ে আপনি যেকোন কিছু ক্রয় কিংবা যেকোন সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন।
- দেশে কিংবা দেশের বাইরের যেকোন ই-কমার্স সাইট হতে পন্য/ সার্ভিস ক্রয় করতে পারবেন।
- ডলার লোড করার সময় কোন ফি নেই।
- যেকোন মাস্টারকার্ড চিহ্নিত এটিএম থেকে উত্তোলন করা যাবে। যার চার্জ ২ ডলার কিংবা ১% (যেটি বেশি হয় তা প্রযোজ্য হবে)
- ভ্রমনকারীদের জন্য একটি সুবিধাজনক কার্ড এটি।

কার্ডটি নিতে আপনার যা লাগবে


- ৫৭৫ টাকা ভ্যাটসহ ৩ বছরের জন্য।
- ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গীন ছবি।
- আইডিকার্ড এর ফটোকপি।
- USD ব্যবহারের জন্য অবশ্যই পাসপোর্ট দরকার হবে। পাসপোর্ট ছাড়া আপনি শুধু এই কার্ডটি দিয়ে বাংলাদেশী কারেন্সি ব্যবহার করতে পারবেন। যদি USD ব্যবহার করতে চান তবে অবশ্যই উপরোক্ত ডকুমেন্ট গুলোর সাথে আপনার পার্সপোটটি নিয়ে যাবেন এবং পাসপোর্টটি এন্ড্রোসমেন্ট করাবেন ডলার ব্যবহারের জন্য।


কার্ডটি নেয়ার প্রসেস


প্রথমে উপরে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো সাথে ৫৭৫টাকা নিন। যদি ডলার ব্যবহার করতে চান তবে অবশ্যই পাসপোর্টটি সাথে নিন। পাসপোর্ট না থাকলেও কার্ডটি আপনি নিতে পারবেন তবে এটি দিয়ে আপনি ইন্টারন্যাশনাল কোন লেনদেন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র বাংলাদেশী টাকা লেনদেন করতে পারবেন। টাকা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো নিয়ে আপনার পাশের কোন ইবিএল শাখায় গিয়ে বলুন আপনি অ্যাকুয়া মাস্টার কার্ডটি নিবেন। তারা আপনাকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠাবে। আপনি যদি ডলার ব্যবহার করতে চান অবশ্যই অফিসারকে সেটি বলুন এবং পাসপোর্টটি উনাকে দিন অ্যান্ড্রোসমেন্ট করার জন্য এবং ই-কমার্স দ্বারা কোন কিছু কিনতে চাইলে সেটিও একসাথে অ্যাকটিভ করার জন্য বলে দিন। কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিলআপের পর আপনাকে সাথে সাখে কার্ডটি দিয়ে দেয়া হবে। কার্ডটি নেয়ার সাথে সাথে ও আপনি টাকা কিংবা ডলার লোড করার জন্য জমা দিতে পারবেন তবে কার্ডটি সম্পূর্ণ অ্যাকটিভ হবার পর আপনার ব্যালেন্স দেখা ও ব্যবহার করতে পারবেন।

কার্ডটি হাতে নিয়ে অ্যাকটিভ করার জন্য কার্ডের সাথে দেয়া কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে কার্ডটি অ্যাকটিভ করে নিন। আপনি যদি কার্ডটি নেয়ার সময় ডলার ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রোসমেন্ট করিয়ে থাকেন এবং ই-কমার্স অ্যাকটিভ করার জন্য বলে থাকেন তবে কার্ড সর্ম্পূন ভাবে ব্যবহার উপযোগী হতে ৫-৭ দিন সময় লাগবে। এর মধ্যে আপনি কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে তথ্য নিতে পারবেন। ৫-৭ দিন পর সব কিছু অ্যাকটিভ হয়েছে কিনা তা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করে কনফার্ম করে নিন। কনফার্ম হয়ে গেলে আপনি কার্ডটি যেকোন জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন।

 

কার্ডটি ব্যবহারে সতর্কতা


- আপনার পিন নাম্বার সর্বদা গোপন রাখুন।
- ই-কমার্স সাইটে কার্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। গুগল, ফেইসবুক, আমাজন, আলী-এক্সপ্রেস্ সহ শুধুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য সাইটেই কার্ড ব্যবহার করুন। SSL ব্যতীত সাইটগুলোতে কার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন অর্থাৎ https ছাড়া ওয়েবসাইটগুলোতে কার্ড ব্যবহার করবেন না।
- কার্ডের সাথে দেয়া কাগজে পিন নাম্বার, কার্ডের Expire Date, কার্ডের পিছনের cvv code গুলো কাউকে প্রকাশ করবেন না।


কার্ডটির সম্পর্কে কিছু প্রশ্নোত্তর যা আপনার মনে জাগতে পারে


১. কার্ডটি নিতে কত টাকা লাগবে এবং বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ কত কাটবে?

উত্তর: কার্ডটি নিতে আপনার ভ্যাটসহ ৫৭৫ টাকা লাগবে। এটির মেয়াদ হবে ৩ বছর। বাৎসরিক কোন ফি নেই। এসএমএস চার্জ প্রযোজ্য যা বছরে ২০০ টাকা মত।

২. কার্ডটির সাথে কি আমাকে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেয়া হবে?

উত্তর: না। এটি শুধুমাত্র একটি কার্ড সার্ভিস। এটি দিয়েই আপনি সব লেনদেন করবেন।

৩. আমার পাসপোর্ট নেই, আমি কি ডলার ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর: না। ডলার ব্যবহারের জন্য অবশ্যই আপনার পার্সপোট থাকা বাধ্যতামূলক এবং পাসপোর্টটি যেদিন কার্ডটি নিতে যাবেন সাথে করে নিয়ে যাবেন এবং পাসপোর্টটি ডলার ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রোসমেন্ট করিয়ে নিবেন।

৪. আমার পাসপোর্ট নেই আমি কি কার্ডটি নিতে পারব?

উত্তর: হ্যাঁ নিতে পারবেন তবে আপনি কার্ডটি দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশী টাকা লেনদেন করতে পারবেন।

৫. কার্ডটিতে আমি সর্বোচ্চ কত ডলার লোড এবং খরচ করতে পারব?

উত্তর: বছরে সার্কভুক্ত দেশের জন্য ৫,০০০ ডলার এবং নন-সার্কভূক্ত দেশের জন্য ৭,০০০ ডলার আপনি লোড ও খরচ করতে পারবেন। তবে আপনার পাসপোর্ট এ কার্ড নেয়ার সময় অফিসার যে পরিমান ডলার অ্যান্ড্রোসমেন্ট করার সিল দিবেন সে পরিমান-ই ব্যবহার করতে পারবেন। তাই ১ম বার বলেই বেশি করে করে রাখুন। কারণ ধরুন অফিসার আপনার পাসপোর্টটিতে ৫০০ ডলারের জন্য সিল দিলেন তাহলে ৫০০ ডলার খরচ করার পর আপনি আর কোন ডলার লোড করতে পারবেন না আবার ব্যাংকে গিয়ে অ্যান্ড্রোসমেন্ট করাতে হবে।

৬. অ্যান্ড্রাসমেন্ট মানেটা বুঝলাম না।

উত্তর: অ্যান্ড্রোসমেন্ট টা হচ্ছে আপনাকে বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) ব্যবহারের অনুমতি যেটি কার্ড নেয়ার সময় অফিসার আপনার পাসপোর্টটির পেছনের দিকের একটি পেইজে সিল দিবেন।

৭. আমি অ্যান্ড্রোসমেন্ট করেছি কার্ডটিও সম্পূর্ণ সচল হয়েছে যা কাস্টমার সেন্টারে ফোন করে কনফার্ম হয়েছি এখন ডলার কিভাবে লোড করব?

উত্তর: ব্যাংকে গিয়ে আপনি বলুন আপনি ডলার লোড করবেন তারা আপনাকে একটি ফরম দিবন ঐটিতে কার্ড নাম্বার ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে টাকা জমা দিন। জমা দেয়ার সময় বলে দিন যে আপনি এই টাকা ডলারে লোড করতে চাচ্ছেন।

৮. ডলার প্রতি কত টাকা দিয়ে লোড করতে হবে?

উত্তর: এটি প্রতিদিন আপডেট হয়। ইবিএল এর ওয়েবসাইট থেকে আপনি দেখে যেতে পারেন ওখানে বর্তমান ডলার মূল্য লিখা থাকবে। আপনি যেদিন লোড করবেন সেইদিনের ডলার মূল্য অনুযায়ী আপনার জমা দেয়া টাকা ডলারে কনভার্ট হবে।

৯. কার্ডটি দিয়ে কি আমি ফেইসবুক, গুগলের সার্ভিস ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর : পারবেন। এককথায় ডলার অ্যান্ড্রোসমেন্ট ও ই-কমার্স এনরোলমেন্ট করার থাকলে আপনি ইন্টারন্যাশনাল যেকোন সাইটে ব্যবহার করতে পারবেন।

১০. আমার কার্ডের ব্যালেন্স কিভাবে দেখব?

উত্তর: ব্যালেন্স দেখার জন্য আপনি হয় কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে জেনে নিতে পারেন কিংবা ফেইসবুকে থাকা ইবিএল এর স্মার্ট এসিসটেন্ট ইবিএল ডিয়া (EBL DIA) কে ফেইসবুকে ম্যাসেজ করে জেনে নিতে পারেন ফ্রি তে।

 

এই লিখাটিতে যথাসম্ভব সবগুলা তথ্য ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া চেষ্টা করা হয়েছে। লিখাটি লিখার সময় ও তারিখের উপর ভিত্তি করে তথ্যগুলো সাজানো তাই কোন প্রকার পরিবর্তন হলে তা আপনারা ইবিএল এর সাইটে বিস্তারিত তথ্য ও কোন প্রকার পরিবর্তন থাকলে তা জেনে নিতে পারেন। EBL Aqua prepaid card


এই রকম আরো পোষ্ট